আমি কে ? আমি কি শরীর নাকি আমি মন ? গীতা থেকে আমরা জানতে পারি শুধু মানুষ সমস্ত প্রাণী হচ্ছে ভগবান পরমেশ্বরের বিভিন্ন অংশ । আর অংশের কাজ হচ্ছে পূর্ণের সেবা করা যেমন হাত ,পা ,আঙ্গুল কান চক্ষু এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্ণ দেহ কে সেবা করা । আমরা পরমেশ্বর ভগবানের বিভিন্ন অংশ হবার জন্য আমাদের কর্তব্য হচ্ছে তাকে সেবা করা । আমাদের জীবদ্দশায় যদি আমরা ভগবান কে দেখতে অস্বীকার করি , তাহলে তিনি আমাদের সামনে নিষ্ঠুর মৃত্যু রুপে উপস্থিত হবে । আমরা যদি তাকে দর্শন করতে না চাই আমরা তাকে অন্য ভাবে দর্শন পাব । তার বিভিন্ন রুপ কারন তিনি জগতের উৎস । কারন তাকে এড়ানো অসম্ভব । আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে আমরা বহু জন্ম জন্মান্তরের পর এই মানুষ জীবন পেয়েছি । এই বিশেষ জীবনে আমরা পশু দের থেকে অনায়াসে আমাদের সমস্যা গুলি সমাধান করতে পারি । কুকুর বিড়াল উট গাধা শুকর ইত্যাদি বহু পশু রয়েছে যাদের অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে তা আমাদের মত জরুরী । কিন্তু তাদের সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে না । আমরা প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে আমাদের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে এক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারি । একজন মানুষ একটি শুকরের বা অন্য পশুদের থেকে উন্নতর জীবনযাপনের সুযোগ পাচ্ছে কেন ? যেমন এক উচ্চ পদস্থ কর্মচারী এক সাধারন কেরানী থেকে অধিক সুযোগ সুবিধা পায় কারন তাকে কেরানী থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য সম্পাদন করে তেমনি মানুষ পশু থেকে অধিক কর্তব্য পালন করতে হয় । আধুনিক পাশবিক সভ্যত্যা উদর পূর্তি সমস্যা গুলি বৃদ্ধি করেছে । তাই তারা উদর পূর্তির সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ভগবান কে জানার সময় তাদেরনেই । আর অনুসন্ধান করার প্রয়োজন তাদের মনে করে না । তবে তাদের মনে নেই কুকুর বিড়ালের মত কঠোর পরিশ্রমের জন্য এই মানুষ জীবন পাই নি । জীবনে পূর্ণ সাফল্য ভগবত প্রাপ্তি জন্য তার জন্ম । কলি যুগের শেষ প্রান্তে তাদের এক মুঠি অন্নের জন্য তাদের গাধার মত পরিশ্রম করতে হবে এটাই সত্য ।
মানুষ যদি তার কর্তব্য সম্পাদন করতে না পারে প্রকৃতি নিয়মে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তাকে পশুর মতো তাহলে এই জন্মের পর তাকে একটি পশুর শরীর ধারন করেতে হয় । মানুষ তার মন বৃত্তি অনুসারে অনুসারে জড় জগত কে ভোগ করার জন্য উপযুক্ত ইন্দ্রিয় সমন্বিত দেহ প্রাপ্ত হয় ।
তবে ভগবানের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হওয়ার পন্থায় এক জন্মে পূর্ণ সিদ্ধি লাভ না করতে পারে তাহলে সে পরবর্তী জন্মে উন্নত ব্রাহ্মন পরিবারে অথবা উচ্চ কুলে জন্ম গ্রহণ করে । পরমার্থ বিষয়ে অকৃতকার্য সাধক যদি উচ্চকুলে বা সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করার সুযোগ পায় । তাহলে যারা সিদ্ধি লাভ করেছেন বা ভগবত ভক্তি মার্গে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নত পরিবারে জন্ম নেয় যাতে তার পরমার্থ কাজ সম্পন্ন করতে পারে । কারন উভয় পরিবারে পূর্ববর্তী জন্মে সাধনার যেখানে সমাপ্তি হয়ে ছিল সেখান থেকে প্রগতি সাধনার সুযোগ পায় , সৎ কুলে জন্ম পরবর্তী পরমার্থ জ্ঞান লাভে সহায়তা করে । গীতায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে তার সৌভাগ্যের কারন পূর্ব জন্মের ভগবত ভক্তি ।
অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্ম গ্রহণ করলে জীবনের প্রথম থেকে অন্ন বস্ত্রের সংস্থান হয়ে যায় তাদের সমস্যা আপনা থেকে সমাধান হয়ে সুখ স্বাচ্ছন্দ আসে তাহলে পারমার্থিক কাজে অগ্রসর হওয়ার সুন্দর সুযোগ আসে । দুর্ভাগ্য বর্তমানে কলি যুগে তারা ইন্দ্রিয় সুখ লালসায় তারা বিপথ গামী হচ্ছে । তারা পারমার্থিক জ্ঞানের আলোক প্রাপ্তি সুন্দর সুযোগ ফেলে তারা সোনার সংসারে আগুন জ্বালায় ,আমরা রাবন তার কর্মে সোনার লঙ্কা কে পুড়িয়ে ছাই করে ছিল ।


Comments
Post a Comment